বহু প্রাচীনকাল থেকেই আমরা বাঙালিরা শত্রুর সাথে যুদ্ধ করে এদেশে টিকে আছি। ইংরেজদের অত্যাচার, পাকিস্তানিদের নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ, সকল অনাচারকে শক্তি, সাহস ও মনোবল দিয়ে প্রতিহত করেছি। এখন আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি। এ স্বাধীনতা লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। আমরা তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।
"উদ্দীপকটি 'আমার পরিচয়' কবিতার আংশিক প্রতিফলন মাত্র।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাঙালির জীবনের প্রতিটি বাঁকেই আছে সংগ্রামের এক-একটি সুদীর্ঘ ইতিহাস। বিভিন্ন সময় বহিঃশত্রু তাদের আক্রমণ করেছে। সেই আক্রমণ তারা সাহস ও শক্তি দিয়ে প্রতিহত করেছে।
'আমার পরিচয়' কবিতায় বাঙালি জীবনের সংগ্রামী দিকটি বর্ণনার পাশাপাশি কবি বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরেছেন। বাঙালির সাহিত্য-সংস্কৃতির পরিচয়ও পাওয়া যায় 'চর্যাপদ', 'গীতাঞ্জলি', 'অগ্নিবীণা', 'মহুয়ার পালা' প্রভৃতির মধ্য দিয়ে। বাঙালির অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, সাম্যবাদী মনোভাবও এখানে বাণীরূপ লাভ করেছে। অন্যদিকে উদ্দীপকে আমরা বাঙালির বিদ্রোহী ও। সংগ্রামী জীবনের পরিচয় পাই। শত্রুর কালো থাবাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাঙালি নিজ ভূমিতে আপন মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছে। লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা।
সংগ্রাম, বিদ্রোহ, বিপ্লব বাঙালির সত্তায় মিশে আছে, ইতিহাসও সেই প্রমাণ দেয়। উদ্দীপক ও 'আমার পরিচয়' কবিতায় বাঙালি চরিত্রের এ দিকটি ফুটে উঠেছে। তবে আলোচ্য কবিতায় বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিচয়ও বিধৃত হয়েছে, যা উদ্দীপকে নেই। এ কারণেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা হয়েছে।
আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি,
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে হাজার বছর চলি।
চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে।
তেরোশত নদী শুধায় আমাকে, ‘কোথা থেকে তুমি এলে?”
আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ।
আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে। ।
আমি তো এসেছি কৈবর্তের বিদ্রোহী গ্রাম থেকে।
আমি তো এসেছি পালযুগ নামে চিত্রকলার থেকে ।
এসেছি বাঙালি বরেন্দ্রভূমে সোনা মসজিদ থেকে ।
এসেছি বাঙালি আউল-বাউল মাটির দেউল থেকে।
আমি তো এসেছি সার্বভৌম বারোভূঁইয়ার থেকে ।
এসেছি বাঙালি পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার থেকে ।
এসেছি বাঙালি জোড়বাংলার মন্দির-বেদি থেকে ।
আমি তো এসেছি 'কমলার দীঘি’, ‘মহুয়ার পালা' থেকে।
আমি তো এসেছি তিতুমীর আর হাজী শরিয়ত থেকে।
আমি তো এসেছি গীতাঞ্জলি ও অগ্নিবীণার থেকে ।
এসেছি বাঙালি ক্ষুদিরাম আর সূর্য সেনের থেকে ।
এসেছি বাঙালি জয়নুল আর অবন ঠাকুর থেকে ।
এসেছি বাঙালি রাষ্ট্রভাষার লাল রাজপথ থেকে ।
এসেছি বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর থেকে।
আমি যে এসেছি জয়বাংলার বজ্রকণ্ঠ থেকে ।
আমি যে এসেছি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে।
এসেছি আমার পেছনে হাজার চরণচিহ্ন ফেলে।
শুধাও আমাকে ‘এতদূর তুমি কোন প্রেরণায় এলে?”
তবে তুমি বুঝি বাঙালি জাতির বীজমন্ত্রটি শোন নাই –
‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'
একসাথে আছি, একসাথে বাঁচি, আজও একসাথে থাকবই –
সব বিভেদের রেখা মুছে দিয়ে সাম্যের ছবি আঁকবই ।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?